আশপাশের ভবনগুলোর সঙ্গে কোনো মিলই নেই লালচে রঙের দোতলা বাড়িটির
সামনে বিশাল প্রাঙ্গণ সবুজ ঘাসে ঢাকা
ঢাকা শহরে ঘরবাড়ির যে ঘিঞ্জি অবস্থা তাতে করে এই প্রাঙ্গণকে অনায়াসে মাঠও বলা যেতে পারে
বহু বছর বয়সী গোটা কতক শিরীষগাছ ডালপালা মেলে সে প্রাঙ্গণকে ছায়াময় করে রেখেছে
দেবদারুসহ আরও কিছু গাছের সারিও রয়েছে উঁচু সীমানাপ্রাচীরের ধার দিয়ে
আছে মৌসুমি ফুলের বাগান
সামনে ব্যতিব্যস্ত রাজপথ
সেখান থেকে অবশ্য প্রাচীরের ওপাশের এই সৌন্দর্য চোখে পড়ে না
তবে সবুজ গাছপালার মাঝখানে ক্রমশ সরু হয়ে ওঠা ফানেল আকৃতির চূড়াবিশিষ্ট বাড়িটি সহজেই দৃষ্টি কাড়ে
বাড়িটি তোপখানা রোডে কদম ফোয়ারার মোড়ের দক্ষিণ কোণে
ফটকের পাশের ফলকে নাম লেখা চামেলী হাউস
ব্রিটিশ আমলের ঢাকার স্থাপনাগুলোর মধ্যে এই বাড়ির স্থাপত্যশৈলী বড়ই নান্দনিক
পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা
পূর্ব পাশের বৃত্তাকার কক্ষের ওপরে তীক্ষ চূড়াবিশিষ্ট ছাদ বাড়িটিকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়েছে
অপর অংশের ছাদের ওপর দোচালা আকৃতির টালি ও টিনের ছাউনি
জানালার কার্নিশগুলো অর্ধবৃত্তাকার ছাউনিতে ঘেরা
ভবনটি ঢাকায় ইউরোপীয় স্থাপত্যরীতির চমৎকার নিদর্শন
বাড়িটির নাম নিয়েই একটু সমস্যা রয়েছে
আদিতে এর নাম ছিল চামেরী হাউস
মুনতাসীর মামুন তাঁর ঢাকা স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী বইতে লিখেছেন ইংরেজি চাম শব্দটি থেকে চামেরী নামকরণ করা হয়েছিল
ইংরেজ আমলে অবিবাহিত ইংরেজ সিভিলিয়ানরা কয়েকজন মিলে যে ভবনে থাকতেন তাকে বলা হতো চামেরী
বাংলাপিডিয়ায়ও চামেরী ভবন বলেই বাড়িটিকে উল্লেখ করা হয়েছে
পরে হয়তো কোনো এক সময়ে চামেলী ফুলের কথা ভেবেই পুরোনো বাড়িটির নাম বদলে ফেলা হয়েছে
চামেরী ভবন স্থাপিত হয়েছিল ১৯২০ সালে
সময়ের গতিপ্রবাহে দ্বিতল ভবনটি ব্যবহূত হয়েছে নানাভাবে
অবিবাহিত ইংরেজ সিভিলিয়ানদের এই আবাসিক ভবন একসময় ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ হলের অংশ
মুনতাসীর মামুন উল্লেখ করেছেন ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গেই মুসলিম ছাত্রদের আবাসনের জন্য সলিমুল্লাহ হলও প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বর্তমান ঢাকা মেডিকেল কলেজের পূর্ব দিকের অংশে
পরে ছাত্রসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সলিমুল্লাহ হল ১৯২৫ সালে রমনা ভবন বর্তমান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পরে বর্ধমান হাউসে বাংলা একাডেমী সম্প্রসারিত করা হয়
তার পরও স্থান সংকুলান না হওয়ায় ১৯২৬ সালের দিকে চামেরী ভবনে ছাত্রাবাসটি সম্প্রসারিত হয়
১৯৩১ সালে এস এম হলের বর্তমান ভবনটি নির্মিত হলে চামেরী হাউস থেকে ছাত্রাবাস সরিয়ে নেওয়া হয়
বাংলাপিডিয়ায় বলা হয়েছে পাকিস্তান আমলে এবং স্বাধীনতার পর বেশ কিছুদিন চামেরী ভবন ব্যবহূত হয় সরকারি কর্মকমিশনের সদর দপ্তর হিসেবে
এখন চামেলী ভবন রয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে
১৯৮৫ সালে এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় সমন্বিত পল্লি উন্নয়ন কর্মসূচির সিরডাপ কার্যালয়
সেই থেকে অনেকেই এটিকে সিরডাপ ভবন বলেও চেনেন
পুরোনো ভবনটিতে আছে মোট ১৩টি কক্ষ—নিচের তলায় সাতটি এবং ওপরের তলায় ছয়টি
এখানে সিরডাপের কার্যালয়
পেছনে দক্ষিণ অংশে পরে নির্মাণ করা হয়েছে নতুন মিলনায়তন এবং পূর্ব পাশে ক্যাফেটেরিয়া
পশ্চিমেও চলছে আলাদা করে সম্প্রসারণের কাজ
তবে আদি দ্বিতল ভবনটিকে সংরক্ষণ করা হয়েছে এর মূল স্থাপত্য অনুসারেই
ফটক পেরিয়ে ভেতরে এলে মনে হয় চারপাশের কোলাহল যেন থমকে আছে ফটকের বাইরে
নিরিবিলি মনোরম পরিবেশ
ঢাকার হারানো দিনের গৌরবের রেশ মিশে আছে সবুজ চত্বর পুরোনো গছাপালা আর নির্বাক ওই স্থাপত্যে
নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পরিবর্তনের চিন্তা নেই
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পরিবর্তনের কোনো চিন্তা তাঁর সরকারের নেই
তবে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে আদালত রায় দিয়েছেন
এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে
জনমতের ভিত্তিতে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে
পাবনার ঘটনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এক হাতে তালি বাজে না
ঘটনার তদন্ত চলছে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে
প্রধানমন্ত্রী সোমবার রাতে নিউইয়র্কে স্থানীয় বাংলা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়ে এসব কথা বলেন
শেখ হাসিনা আরও বলেছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এমন নয় যে শুরু হয়েছে এবং কয়েকজনের বিচার করেই শেষ হয়ে যাবে
যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধীদের খুঁজে বের করা একটি অব্যাহত প্রক্রিয়া
যখনই তাঁদের খুঁজে পাওয়া যাবে তখনই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে
জাতিসংঘে বাংলাদেশের নিজস্ব কার্যালয়ে এই মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি ও জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এম এ মোমেন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে তাঁর ৬৪তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন
১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস এবং বিরোধীদলীয় নেত্রীর জন্মদিনসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন মানুষ তো একদিনই জন্মায়
অবশ্য কারও কারও দেখি চারটা-পাঁচটা জন্মদিন
সভায় নিউইয়র্কের স্থানীয় এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান ২১ আগস্টের ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে পত্রপত্রিকায় নাম এসেছে
তিনি আপনার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন
আপনি কি ক্ষমা করেছেন
এ প্রশ্নে বিস্ময় প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী
প্রশ্নকর্তাকে তিনি পাল্টা জিজ্ঞেস করেন আপনি এ সংবাদ কোথায় পেলেন প্রশ্নকর্তা ভ্যাবাচেকা খেয়ে কোনো উত্তর খুঁজে না পেয়ে আশপাশে কাউকে খুঁজছিলেন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট করে বলেন প্রথম আলোর সম্পাদক আমার সঙ্গে দেখা করেন
কিন্তু ক্ষমা চাওয়া-চাওয়ির কোনো ঘটনা ঘটেনি
আমি তো এসবের কিছু জানি না
তিনি বলেন ২১ আগস্টের ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে
তদন্তের পরই জানা যাবে প্রকৃত ঘটনা কী ঘটেছিল
প্রসঙ্গত সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াবের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিল
সেই প্রতিনিধিদলে প্রথম আলোর সম্পাদকও ছিলেন
অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনেককেই গ্রেপ্তার করেছে
আবার অনেক বড় বড় দুর্নীতিবাজকে ছেড়ে দিয়েছে
ফলে তারা সফল হতে পারেনি
তিনি বলেন দুর্নীতিবাজদের বাঁচাতে বিরোধী মহল সক্রিয় রয়েছে
তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান
প্রধানমন্ত্রী বলেন যাদের নাগরিকত্ব ছিল না জেনারেল জিয়া তাদের দেশে নিয়ে আসেন
জিয়াউর রহমানই যুদ্ধাপরাধীদের দেশে প্রতিষ্ঠিত করেছেন
যাঁরা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বিসর্জন দিয়ে অন্য দেশের নাগরিকত্ব নিয়েছেন দেশের আইন অনুযায়ী তাঁদের ভোটার হওয়ার সুুযোগ নেই
তবে অন্য প্রবাসীরা বাংলাদেশে এখন থেকে ভোটার হতে পারবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন
ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করাসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন নির্বাচন কমিশনের আইন মেনে সবাই রাজনীতি করবে
ধর্মের সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কোনো যোগসূত্র নেই
কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিকে দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া সম্পর্কে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার ইতিপূর্বে দেওয়া বক্তব্যকে তিনি সমর্থন করেন
প্রধানমন্ত্রী বলেন গত বিএনপি সরকার লুটপাট করে ১৮ হাজার হেলথ ক্লিনিক প্রকল্প ধ্বংস করে দিয়েছিল
যারা প্রকল্প ধ্বংস করেছে তাদের হাতে কাজ দেওয়া নিরাপদ নয়
আওয়ামী লীগের লোকজনকে যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ দেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন
সংবাদ সম্মেলন ছাড়াও নিউইয়র্কে জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়
সংবর্ধনা সভায় শেখ হাসিনা বলেছেন নিউইয়র্কে মিশনের জন্য আমরা স্থায়ী ভবন কিনেছি
বিভিন্ন দেশে অচিরেই বাংলাদেশ নিজস্ব ভবন করবে দূতাবাস ও কনস্যুলেট কার্যালয়ের জন্য
প্রধানমন্ত্রী প্রবাসের যুবসমাজকে বাংলাদেশের উন্নয়নে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান
তিনি বলেন ২০২১ সালে একটি সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে চাই
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে ঢাকার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক ত্যাগ করার কথা
বিবিসিকে প্রধানমন্ত্রী বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরোধী দলের প্রয়োজন আছে
তবে মানবতাবিরোধীদের বিচার-প্রক্রিয়ায় বিরোধী দল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে তা কাম্য হতে পারে না
সোমবার সাক্ষাৎকারটি প্রচার করা হয়
মানবতাবিরোধীদের বিচারের প্রক্রিয়া নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন
বিশেষ করে যে প্রক্রিয়ায় লোকজনকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে তাতে এমন অভিযোগ উঠছে যে বিরোধী দলের কণ্ঠরোধ করতেই সরকার বিচার-প্রক্রিয়া নিয়ে এগোচ্ছে
এ অভিযোগের ব্যাপারে শেখ হাসিনা বলেন অভিযোগটি একেবারেই ভিত্তিহীন
কারণ একাত্তরে যাঁরা মানবতাবিরোধী তৎপরতা চালিয়েছিলেন ধর্ষণ-অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাঁদের বিরুদ্ধেই সরকার বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে
বিরোধী দলের নেতা থাকার সময় আপনি বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন কিন্তু এখন বেসরকারি চ্যানেলগুলোতে বিটিভির সংবাদ প্রচারে চাপ দেওয়ায় সমালোচনা হচ্ছে
এ বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন ১৯৯৬ সালে দেশে মাত্র একটি টিভি ছিল
